Sunday, September 20, 2009

দৃশ্যমান একটি টেবিল

ক্রমপ্রসারিত পরিধি ধরে আমি খুব কাছে গিয়ে দেখি -
টেবিলের সেই পুরোনো ত্বকে জমাট বেধেছে রক্ত - গহীন অরণ্যের শুকনো পাতা
স্তুপের পর স্তুপ যেভাবে সাজানো থাকে - যেভাবে দাবানল জ্বলে
ঠিক তার মত - তাহার মত শুকনো কাঠের গুঁড়ি - ধারালো হয়েছে আরো
আরো তীক্ষ্মতায় গেঁথে গেছে পাঁজর অবধি

অবধি হতে অবধি - ছুঁয়ে দেখি লবনাক্ততায় উন্মাতাল - অস্থিমজ্জায় সারিবদ্ধ সৈনিক সব মার্চ পাস্ট করছে নিয়ত- প্রতিনিয়ত

আমি আরো একটু কাছে গিয়ে দেখি - সেই গ্লাস

তামাটে হয়েছে আরো

জলের মৃদু উষ্ণতায় কাপঁছে - কাঁপছে লৌহগন্ধ যান - ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে উঠা বিদগ্ধ দর্শনে - প্রতিবার কাঁপছে বিনম্র আঁচল -
প্রতিবার এক ফোঁটা লোহিত কণিকায় মিশেছে যেমন খনিজ জল,
তেমনি পবিত্রতায় এক মৃন্ময়ী প্রাণ
আরো ঘনত্বে ক্রন্দনরতা তাহার স্থান - সেই টেবিলজুড়ে মহাপ্রয়াণের
স্তবক হয়েছে বিস্তৃত - যত্রতত্র

একটি হাত - অনেক হাত
একটি পা - অনেক পা
একটি দেহ - অনেক দেহ - যাহার পাকস্থলীময় কাঁদা মাটি

কিংবা

একটি মস্তিষ্ক - নিউরনে যাহার সুতীব্র বিয়োজন, শীতলতম চাহনিতে বিদ্ধ চারপাশ

ক্রমপ্রসারিত সেই টেবিলের স্বপ্নে আমার ঘুম ভাংগে - আমি দেখি, খুউব কাছে গিয়ে দেখি - ধূসর রং নিয়ে ক্রীড়ারত শিশুরা ক্রমশ স্থান বদলাচ্ছে -বদলাচ্ছে প্রাণ -

অন্য প্রাণ

Saturday, September 19, 2009

একটি তিলের কথা -

ভাবছি অনেকদিন সেই একটা তিলের কথাই তো বলা হয়নি - যার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা, সাদা সাদা তুলোরা বুনোট বাধলেই চেয়ে থাকা নির্ঘুম চোখে চোখে -

ভাবছি হেঁটে পার করা সেতুর ওপাশে কতটা ঘুরলেই সেই তিলের অবস্থান , রং আর তীব্রতা কেমন - সমরখন্দ দিতে পারি কী না কিংবা দিলে

কতটা সবুজ ঘাস পাব - কতটা মখমলজুড়ে শীতের তীব্রতা - বৃষ্টিহীন বিকেল কতটা পার করে পাব একাকী নদী - কতটা রাতের শেষে অমাবস্যা শেষ হবে - কতটায় সেই তিল ফিরে পাবো

ভাবছি সেই তিলের কথা যাহার মুগ্ধতায় ম্লান পুরোনো পথ - সিল্ক রোড - ছেড়ে ছেড়ে সাদা রেখা ধরে ছুঁয়েছে ধূসর পথ - হারায়ে অপরাজিতা -বুনো ফুল মেলে ধরে নিশ্চুপ রাতের পথ চলা

কত কথা - কত কথা টুপ টুপ করে ঝরে পড়ে - যখনি ভাবছি কতটা সমরখন্দ ছেড়ে এলে

অপলক তাকিয়ে থাকা

Saturday, September 12, 2009

ওভাবে তো আসলে কিছুই হয় না

ওভাবে তো আসলে কিছুই হয় না ।


এক কাপ চা - লিকার কড়া
নিম নিম পাতায় কুঁচকিতে ভাজ
অতপর কিছুই হয় না একটু বসে পড়া
সেদ্ধ হতে থাকা রসায়ন - ক্রমেই টুইটম্বুর হয়

পোরসেলিন সৌরভে নীল হতে থাকে চিবুক - কালো তিল আরো কালো
অথচ হলুদাভ বেডশীট নেমে আসে
মেঝে ছুঁয়ে -

ব্যাথালীন হাড়ে হাড়ে ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হতে থাকে অনূভূতি


গলনাঙ্কে বাষ্প উড়ে - উড়ে এলে সাদা পাখি কালো দেয়াল হয়
পাতা উল্টালে বিকেল ঘনায়
ঘনালে কী তাহার কিছুই হয় - কিছুই না
এবং অপ্রশ্ন হয়ে পড়ে প্রতিটি রেখা - যেখানে বিন্দুরা মিলিত হয়

একটু অগোছালো হলে গৃহহীন হয়ে পড়ে
ভেতরের সমস্ত কপাট - আসবাব

থরে থরে লাভা গলে - জমাট আকরিক ত্বকের ক্যানভাসে
একে একে হ্রদ হয় - বিমূর্ত নগরীর বুকে সরীসৃপ এক নদী হয়

পূনশ্চ : ওভাবে তো আসলে কিছুই হয় না । চাপ বাড়ে না ; বাড়ে না তাপ। কোথাও কিছুই হয় না বলেই ঘনত্ব বাড়ে ; প্রসারিত হয়ে পড়ে ঝুল বারান্দা। আর কেউ একজন দাড়িয়ে থাকেন অন্যত্র -

Thursday, September 10, 2009

সমসাময়িক

অন্তর্দহনে পুড়ে যায় সাবলীল ভাগ্য রেখা এবং একজন নারী
কিন্ত আমি বেশ বেসামাল হয়ে থাকি-অনেকটা রান্নঘরের উঁচু
স্তরে গড়ে ওঠা আদিম বসতি ছুয়ে নেমে এলে প্রাচীন সেই
অনুভূতি

একঝাঁক তারা উড়ে যায় দেয়ালে দেয়ালে, শির শির করে উঠে
ত্বকে ত্বকে তেলতেলে হয়ে উঠে ক্রমশ ডাইনিং স্পেস জুড়ে

একটি গ্লাস আর টুংটাং
একটি প্লেট আর শুন্যতা সমার্থক হতে দেখি দহনে; ক্ষরনে

পুড়ে যেতে থাকে পাখাসমেত আর স্বপ্নের বুদবুদগুলো জমাট
বাধে
স্টেইনলেস ষ্টীলজুড়ে তবুও সকাল অবধি
প্রতি রাতে বলতেই হয় তারা বাচে কোটি বছর আর আমি
জলছাপ হয়ে পড়ি অমাবস্যার প্রহর ঘণালে

Sei Pakhi

অন্ধকার রাতে হেঁটে যায় সবুজ বর্শা
অতপর আমি তার হাত ধরি ; ধরাধরি করে যখনি ছুতে যাই চিবুক

ঘুম ভাঙ্গে !

ঘুমন্ত নগরীর দেয়াল হতে বৃষ্টিপাত হয় , ক্ষনিকের পালাবদল ঘটে রাতের তারার ; তারারা তাদের কাছে এক হয়ে থাকে

আলো জ্বলে !

জ্বলন্ত নগরীর সব ধোঁয়া উধাও হতেই নেমে আসে আর্দ্রতা
পিঠের নাল বেয়ে ; ধীরে ধীরে স্রোতে স্রোতে

অথচ সময় ঘণালে সকাল নেমে আসে একটি পাখি,

সেই পাখি যার বুকে সবুজ বর্শা

যার পাখায় ভর করে উড়েছিল পৃথিবীর কিশোরী পাতা

Kobitr Anagona

কবিতা তো আসুক ...
নিয়মিত ...... টিল ডেথ ডু আস পার্ট ....

সেটা তো কবিতা নিজেই জানে না
যেদিন সে অন্য বাড়ীর উঠোনে আলতো ছোঁয়া দিয়ে দিল
সেদিন হতেই
কখন কার বুকের গভীরে একে দেবে
নিজের আঁচল ছোঁয়ানো আলপনা -

কেউ জানে না ; সেও জানে না

আমি কিভাবে বলি কী কখন টিল ডেথ হবে -

সো ফরগেট অল - যা যেভাবে চলছে সেভাবেই চলুক না হয়- আজ আছি হয়ত কাল নেই

Puran Kotha

পুরাণ কথা
------------
একজন তিনি এই পথে যাবেন সমুদ্র ভ্রমনে, সেই কথা - তাহার কথা ভাবিতেছে অসার স্বপ্ন চারীর দল....

ক্রমশ: ঘনো হয়ে যাওয়া
মসলিন হাওয়ায় উড়তেছে রাতের আকাশজুড়ে
মসৃন নক্ষত্রেরা
যতটা ছিল তার চেয়ে অধিক মৌনতায়
ক্ষীন হয়ে আসা পথে ঢুকে পড়ে শুণ্য সব
অশুণ্যের
দাবানলে পুড়ে যাওয়া মেহগনি কাঠের বন -

বায়বীয় বিস্বাদ ক্রমশ অধিক হলে

তারা হয়ত ভাবে ততোধিক মগ্নতায়
তিনি কী পেরিয়েছেন অধিক দূরত্ব অথবা নাতিষীতোষ্ণতায়
মুছে গেছে সব নোনা জল,
না জেনে কী করে পার করে রাতের শুষ্কতা
অনধিক সঙ্গম যেখানে - যে প্রস্থানে হয়ে পড়ে অর্বাচীন

প্রাগৌতিহাসিক নগরের ভূ-কম্পনে শুনা যায়
শুধু বিকলাঙ্গ পায়ের শব্দ.....

ধীরে
ধীরে
মিলায়